জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে বালু ও মাটি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন আলম, তার স্ত্রী মাহবুবা খাতুন ও উপজেলা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান সুমন আহত হয়েছেন। আলমগীরের অভিযোগ, বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় তাকে ও তার স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আতিয়ার রহমান। তার পাল্টা দাবি, মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় আলমগীরই তার ওপর হামলা করেছেন।
শুক্রবার রাত আটটার পর রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের চক রোয়াইড় গ্রামের আজাদুলের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত তিনজনকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আলমগীর হোসেন রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে চক রোয়াইড় গ্রামের একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি খনন করে মাটি ও বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছিল। বালুবাহী ট্রাক্টর চলাচলের কারণে গ্রামের সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয়রা এর প্রতিবাদ করেন এবং বিষয়টি পুলিশকে জানান। গত সোমবার রাতে পুলিশ গিয়ে একটি ট্রাক্টর আটক করলেও পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবারও ট্রাক্টর চলাচল শুরু হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।
আলমগীরের ভাষ্য, গ্রামবাসীর পক্ষ নিয়ে তিনি বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করেন এবং বিষয়টি উপজেলা বিএনপির নেতাদের জানান। বুধবার গ্রামবাসীর একটি দল নেতাদের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ তুলে ধরেন। এ নিয়ে শনিবার দুই পক্ষের বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই শুক্রবার রাতে গ্রামবাসীকে বৈঠকের কথা জানাতে বের হলে আজাদুলের দোকানের সামনে আতিয়ার রহমানের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। স্ত্রী মাহবুবা তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আলমগীর আরও দাবি করেন, তিনি গরু কেনাবেচার ব্যবসা করেন এবং আতিয়ার রহমান তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। টাকা না দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে অভিযোগ আলমগীরের। তার দাবি, মারুফ নামের এক ব্যক্তির জমি থেকে মাটি ও বালু তুলে নবাবের ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছিল।
অন্যদিকে আতিয়ার রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আলমগীর মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং গত এপ্রিল মাসে তাকে মাদক ব্যবসা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল। এ কারণে আলমগীর তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। শুক্রবার রাতে গ্রামের বাড়িতে গেলে আলমগীর তাকে মারধর করেন বলে দাবি করেন আতিয়ার। এতে তার বাম হাতে আঘাত লাগে। চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
শনিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, আলমগীর ও আতিয়ার পাশাপাশি দুটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। আলমগীরের মাথায় ব্যান্ডেজ ছিল। আতিয়ারের বাম হাতে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় এবং হাতটি গজ দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা ছিল। আলমগীরের স্ত্রী মাহবুবা খাতুনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম ছোয়াত বলেন, বালু উত্তোলন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে শনিবার দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের কথা ছিল। এর আগেই তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান মাসুদ বলেন, ছুরিকাহত হওয়ার ঘটনা তিনি শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
